ব্লক সরিয়ে সবজি চাষ করায় রাস্তার দুই পাশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১২নং উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের নদীর পাড় ঘেঁষে থাকা মূল পাকা রাস্তা থেকে শুরু হওয়া ‘উলপুর-ইউপি-ইজিএস নিজড়া কাঠালবাড়ী সড়ক’-এর প্রথম অংশের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার পরপরই শুরু হয়েছে চরম অনিয়ম ও ভাঙন।
প্রথম ঠিকাদারের নির্মিত ৮০০ মিটার রাস্তার দু’পাশের সুরক্ষামূলক ইন্টারলকিং কংক্রিট ব্লক সরিয়ে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউপি ভবনের সামনের পাকা সড়কসংলগ্ন নদীর পাড় থেকে শুরু হওয়া এই ৮০০ মিটার অংশে ইন্টারলকিং ব্লক বসানোসহ সার্বিক কাজ সফলভাবে শেষ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এলজিইডির কাছে বুঝিয়েও দিয়েছে। তবে এলজিইডিকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পর সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তাটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই নেমে এসেছে বিপর্যয়।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহসিন মোল্লার ছেলে রাসেল মোল্লা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেওয়া এই কোটি টাকার রাস্তার দু’পাশের শতাধিক ব্লক সরিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশের ব্লক তুলে ফেলে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে। ব্লক সরানোর ফলে বিল ও জলাশয় পাড় ঘেঁষে থাকা নবনির্মিত রাস্তার দু’পাশে মাটি ধসে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা কোটি টাকার সরকারি সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ঠিকাদার কাজ শেষ করে এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকেই রাসেল মোল্লা ব্লক তুলে নিয়ে নিজের মতো জায়গা ব্যবহার করছেন। গ্রামবাসী বাধা দিলেও তিনি শোনেননি, উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।”
অভিযোগের বিষয়ে রাসেল মোল্লার সাথে কথা বলা হলে তিনি রাস্তার পাশে সবজি চাষের কথা স্বীকার করেন। তবে সরকারি ব্লক সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, উল্টো সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, “কে আপনার কাছে অভিযোগ দিয়ে এখানে এনেছে?”
কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের কাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পরই এভাবে সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব নষ্ট করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলজিইডি ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।
সরকারি ছুটি থাকায় এলজিইডি এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ সময় তার মুঠোফোনে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।