ছবি: আলোচনায় মিতা আহমেদ,
তানভীর হাসান সৈকত,
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৬ নম্বর ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রনি আহমেদের সহধর্মিণী মিতা আহমেদ। তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসছে শেখ রনি আহমেদের সামাজিক পরিচিতি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং মানুষের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ রনি আহমেদের মরহুম পিতা হাজী আইনাল আলী শেখ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত পাট ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, মিতা আহমেদের মরহুম পিতা বেলায়েত মৃধা, যিনি বাগু মৃধা নামে পরিচিত ছিলেন, নিজস্ব অর্থ, জমি, শ্রম ও মেধা দিয়ে বাগু মৃধা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্পৃক্ততা স্থানীয় আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিধান মণ্ডল বলেন, শেখ রনি আহমেদ ও মিতা আহমেদের সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের সুখে-দুঃখে তাঁরা পাশে থাকবেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
চারুলতা বৈরাগী বলেন, শেখ রনি আহমেদ ধর্মীয় পরিচয়ের ভেদাভেদ না করে তাঁদের সম্মান করেছেন। মিতা আহমেদও সম্প্রীতি ও মানবিকতার এই বন্ধন অটুট রাখবেন বলে তাঁরা আশা করেন।
অন্যদিকে, আব্দুর রহমানের প্রত্যাশা, ননীক্ষীর ইউনিয়নে ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ও পেশিশক্তিমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জননিরাপত্তা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিতা আহমেদ তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ননীক্ষীর ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উপহারসামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হন। স্থানীয়ভাবে এ উদ্যোগকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ননীক্ষীর ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে মিতা আহমেদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁর প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়ে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মূল্যায়ন ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।