May 14, 2026, 8:08 am
শিরোনাম:
মুকসুদপুরে মানবতার আলো ছড়াচ্ছে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন কাশিয়ানীর হাতিয়াড়ায় নারীর উপর বর্বরোচিত হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ কাশিয়ানীতে পৈত্রিক জমির উপরে জোরপূর্বক পথ তৈরির অভিযোগে উত্তেজনা কাশিয়ানীতে রহমান মুন্সী গংয়ের ভূমি দখলের অভিযোগ মনির হোসেন মুন্সী গংয়ের বিরুদ্ধে দেশের সকল উপজেলা ও জেলা প্রতিনিধিদের কারণ ছাড়াই” এক নোটিশে চাকরিচ্যুত করলো এশিয়ান টেলিভিশন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হোটেল নির্মাণ” খাল-সড়ক দখল-অদৃশ্য কারণে নিরব প্রশাসন কাউন্সিলর পদে জনতার প্রার্থী জনি সিকদারের প্রচারণা গোপালগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা মুকসুদপুর পাইলট স্কুলের বহিষ্কৃত শিক্ষক অমৃতলাল মজুমদারের কাণ্ড বিএনপির টিকিট পেলেন গোপালগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেত্রী সুবর্না ঠাকুর

মুকসুদপুরে মানবতার আলো ছড়াচ্ছে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন

Reporter Name
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

মুকসুদপুরের জলিরপাড়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত:             সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন,
অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছেন-প্রতিষ্ঠাতা “সভারঞ্জন শিকদার”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের বানিয়ারচর—নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত, দীর্ঘদিনের অবহেলায় পিছিয়ে পড়া এক জনপদ। জীবনের প্রতিটি ধাপে যেখানে সংগ্রাম, চিকিৎসা যেখানে অধরা—সেই জনপদের বুকেই নীরবে-নিভৃতে মানবতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন। স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগী, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু এবং অসহায় মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আজ শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়—এটি এক টুকরো আশ্রয়, এক চিলতে আশা এবং নতুন জীবনের দিশারি হিসেবে কাজ করছে।

২০২৩ সালে বানিয়ারচর খেয়াঘাট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে যাত্রা শুরু হয় এই মানবিক উদ্যোগের। সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক সংকট সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদারের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, ত্যাগ এবং মানবিক দায়বদ্ধতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা, আধুনিক ফিজিওথেরাপি, খাদ্য সহায়তা, আবাসন এবং পুনর্বাসন সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে বিরল দৃষ্টান্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে নদীভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার ওই এলাকায় বসবাস করছে। জীবিকার তাগিদে কেউ ছোট ব্যবসা, কেউ বেকারি কিংবা কলকারখানা গড়ে তুললেও চিকিৎসা সুবিধার অভাব ছিল দীর্ঘদিনের। এই বাস্তবতায় সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এখানে আগে অসুস্থ হলে চিকিৎসার কোনো সুযোগ ছিল না। এখন এই প্রতিষ্ঠান আমাদের বাঁচার ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম বিশ্বাস, গৌতম বিশ্বাস ও সুমন বৈরাগী মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাদের দখলকৃত প্রায় ৩০ শতাংশ জমি, বসতঘর ও গাছপালাসহ প্রতিষ্ঠানটির জন্য দান করেছেন। তবে এলাকাবাসীর জোর দাবি, এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ী রূপ দিতে উক্ত জায়গাটি সরকারি প্রক্রিয়ায় সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদার বলেন,
আমি নিজের জন্য কিছু করতে আসিনি—মানুষের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই। যারা রাস্তায় পড়ে থাকে, যারা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়—তাদের জন্যই এই প্রতিষ্ঠান। যত বাধাই আসুক, আমি থামবো না। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অসহায় মানুষের পাশে থাকবো।তিনি আরও বলেন,
আমি জায়গাটির স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি তাহা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এই জায়গাটি যদি সরকারিভাবে আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি হাসপাতাল গড়ে তুলতে পারবো। শুধু এই এলাকার মানুষ নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও উপকৃত হবে। আমি প্রশাসনের কাছে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি—এই মানবিক উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের পাশে দাঁড়ান।তার সম্পর্কে সেবাগ্রহীতা মেরী বিশ্বাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
তিনি আমাদের কাছে সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মানুষ। আমরা এখানে চিকিৎসা, খাবার ও থাকার জায়গা পাচ্ছি। অনেক সময় বাড়ি ফেরার ভাড়াও তিনি নিজে দেন। এমন মানুষ আমরা জীবনে দেখিনি।”

চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিবন্ধী রোগী জোসনা পান্ডে বলেন,
“জরুরি রোগীদের দ্রুত সেবা দিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স খুবই প্রয়োজন। অনেক সময় রোগী নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।”

নারী সেবাগ্রহীতা রুহিদাস বিশ্বাস বলেন,
এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে আমরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবো। আমরা গরিব মানুষ—আমাদের আর কোনো জায়গা নেই। সম্প্রতি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা সমাজসেবক কামাল শেখ চিকিৎসা গ্রহণের আগে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
বর্তমান সমাজে কে কাকে ধ্বংস করবে—সেটার প্রতিযোগিতা চলছে। তার মাঝেও আমাদের এলাকায় মানবসেবার কারিগর সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদার রোগীদের জন্য আল্লাহর প্রেরিত এক দয়ালু দূত হিসেবে কাজ করছেন। এখানকার চিকিৎসা সেবা নিয়ে আমি অনেকটা সুস্থ হয়েছি। আশা করি আরও সেবা পেলে আমি সহ শত শত পঙ্গু মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

এলাকাবাসীরও একই দাবি—সরকার যেন দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করে এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে। সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. শুভ্রা শিকদার জানান,
এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি সেবা দিতে। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বাড়ানো গেলে আরও উন্নত ও বিস্তৃত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আগত ভলান্টিয়ার ডো ইল কিম এবং নারী ভলান্টিয়ার ইউন জং বেক প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। তারা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।প্রতিষ্ঠানটিতে অর্থোপেডিক, নিউরোলজিক্যাল, পেডিয়াট্রিক, স্পোর্টস ও জেরিয়াট্রিকসহ বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম, অকুপেশনাল থেরাপি এবং ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা সেবাগ্রহীতাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে।ভবিষ্যতে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন কমিউনিটি হাসপাতাল” প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্যারালাইসিস রোগীদের জন্য আবাসিক চিকিৎসা, আধুনিক ফিজিওথেরাপি এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন সেবা চালু করা হবে। তবে জায়গা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন আজ এই অঞ্চলের অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সভারঞ্জন শিকদারের মানবিক উদ্যোগই বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের জীবন—যদি তার পাশে দাঁড়ায় রাষ্ট্র ও সমাজ।