ছবি:লুটপাট অগ্নি সংযোগের পরের মূহুর্তে”
জয় শিকদার,বিশেষ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় এক অসহায় বিধবার বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ২ নং বৌলতলী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুকান্ত এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এই বর্বর হামলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী রমা বিশ্বাস।
ভুক্তভোগী রমা বিশ্বাস জানান, তিনি তার স্বামী মৃত দিলীপ বিশ্বাসের পৈতৃক বসতবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করে আসছেন। গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে একদল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ব্যক্তি হঠাৎ তার বাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল লুটপাট করে এবং একপর্যায়ে পুরো বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে আগুনে ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী বিধবা রমা বিশ্বাসের দাবি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুকান্তের সরাসরি নির্দেশে ও পরিকল্পনায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সুকান্ত এলাকায় একটি নিজস্ব ‘প্রভাবশালী বাহিনী’ গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগী কামরুল উকিল ও আবেদ উকিল গং (সাং বৌলতলী) দীর্ঘদিন ধরে রমা বিশ্বাসের কাছে মাসিক ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। একই সাথে টাকা না দিতে পারলে বসতবাড়ি সংলগ্ন সরকারি খাসজমি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও তাকে অনবরত চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী রমা বিশ্বাস বলেন—”আমার স্বামী মারা গেছেন, সন্তানরাও বাইরে থাকে। বাড়িতে আমি একাই থাকি। এই সুযোগে ওরা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছিল। তাদের অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত না করায় পরিকল্পিতভাবে আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সুকান্তের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনাটি সত্য। তবে কারা এর পেছনে জড়িত তা নিশ্চিত হতে ওই এলাকা ও আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন আরও জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী রমা বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।